কোন পথে বাংলাদেশের রাজনীতি?
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ঝরে গেছে সহস্র প্রাণ। স্বৈরিণী শেখ হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। বিপ্লবীদের অপমৃত্যুর মিছিল আর শোকের ছায়ায় এখনও বাকরুদ্ধ একটি প্রজন্ম। মৃত্যুর মিছিল আর শোকের ছায়া।
গণতন্ত্রের প্রচলিত কাঠামোতে একটি রাজনৈতিক দল ও সাইকোপ্যাথ শাসক, ক্ষমতালিপ্সু শেখ হাসিনার ভারতে পলায়ন। প্রায় দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক উত্তরণের অভিযাত্রা। এমন অভিযাত্রার পূর্ণতা কোটা সংস্কারের আন্দোলনের হাত ধরে জাতির প্রত্যাশার একটি সম্মোহনী বার্তা—ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের এক দফার আন্দোলন।
৫ই আগস্ট ২০২৪ সাল; ১৪০০-এর বেশি তাজাপ্রাণ ঝরে গেছে এরই মধ্যে। একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অভিযাত্রায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা। একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন।
কিন্তু এ স্বপ্নকে ভূলুণ্ঠিত করছে কারা?
গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এ নতুন বাংলাদেশে কারা সংস্কারকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদী কাঠামোতেই অবরুদ্ধ করতে চায় এ দেশের মানুষকে?
এর উত্তর বেশ পরিষ্কার। গত ১২ই ফেব্রুয়ারির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে এক সময়ের জঙ্গিবাদের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশদাতা তারেক রহমানের বিএনপি। এরই মধ্যে রাজনৈতিক এ দলটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি, এর ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। অস্বীকার করেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে সম্প্রতি বলেন, “আমাদের একটা তাগাদা ছিল, যে এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়। সেজন্য আমরা সবকিছুতে আপোষ করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। আমরা একত্রিত হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে; এবং নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলি নাই।” এমন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। এবং জুলাই শহীদদের সঙ্গে রাজনৈতিক কালো সন্তান তারেক রহমানের স্পষ্ট গাদ্দারি।
বছরের পর বছর ধরে যে রাষ্ট্রব্যবস্থা চলে এসেছে, বিএনপির মতো বুর্জোয়া ও পতিত একটি রাজনৈতিক দল এর পরিবর্তন চায় না। জুলাই বিপ্লবের যে আকাঙ্ক্ষা, বিএনপি তা ধারণ করে না। বাংলাদেশ পুনরায় ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে না ফেরার মুচলেকা দেওয়া প্রয়াত বেগম জিয়ার কুপুত্র তারেক রহমান আবারও বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিকভাবে একটি খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যত বাংলাদেশে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়; আগামীতে এ ছাত্রজনতা প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নিবে। প্রতিবিপ্লব হবে। সে বিপ্লবে নব্য ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক কালো সন্তান তারেক রহমানের সাথে তাঁর মন্ত্রি এমপিদেরও হত্যার মধ্য দিয়ে এ দেশে ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হবে।
