জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ: প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও বিতর্ক
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ই ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে রাজনৈতিক দলটি। গত দুই দশকে স্বৈরিণী শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয় একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দেশের ছাত্রজনতা যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে রাজপথে নেমে এসেছিল, বর্তমান সরকার কি সে প্রত্যাশা আস্থার জায়গায় নিজেদের নিয়ে যেতে পেরেছে?
এর উত্তর না। কিন্তু কেন?
দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জাতির সাথে একের পর এক গাদ্দারি করেই যাচ্ছে ক্রমাগত। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পটপরিবর্তনের জন্য জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্য দিয়ে দেশের সংবিধান সংস্কারসহ সামগ্রিক দিকে একটি অর্থবহ পরিবর্তন সূচিত হবার কথা ছিল।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৬৮.৫৯% ভোটার “হ্যাঁ” ভোটের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু বেজন্মা, রাজনৈতিক বেশ্যা তারেক রহমান হাজার হাজার জুলাই শহীদের আত্মত্যাগের সাথে বেঈমানি করে জুলাই সনদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্য দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে। বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন যাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদে ‘আপস করেছি’। ‘সংস্কারের নামে’ নির্বাচন ঠেকানোর আশঙ্কা থেকেই তাদের ওই অবস্থান নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের একটা তাগাদা ছিল যে এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সেজন্য আমরা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। একত্রিত হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে। নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলি নাই। এমন বক্তব্য জাতির সাথে স্পষ্ট প্রতারণা।
জঙ্গিবাদ, অর্থপাচারসহ একাধিক মামলায় তারেক রহমান ছিলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। ২০০১-২০০৬ রাজনৈতিক ক্ষমতার প্যারালালে থাকা হাওয়া ভবনে নিজ অপকর্ম, অর্থপাচার, সারাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক স্থাপনসহ একাধিক অপকর্মে জড়িত ছিলেন। ১/১১-তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তাদের সুন্দরী স্ত্রী-কন্যাদের যৌন হেনস্তাসহ বিভিন্ন অপকর্মের কারণ হিসেবে নির্যাতনের শিকার হন রিমান্ডে। এমনকি রাজনীতিতে জঙ্গিবাদের উচ্চপর্যায়ের এই নির্দেশদাতা, ভদ্র মায়ের এই বেশ্যা পুত্র জীবনেও রাজনীতি করবেন না—এই মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায় নিজ অপকর্মের দায় মাথায় নিয়ে।
এমন একজন রাজনৈতিক বেশ্যা ও প্রয়াত বেগম জিয়ার কু-সন্তানের নেতৃত্বে মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। একদিকে তারেক জিয়ার রাজনৈতিক অপকর্ম এবং সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামল খুব বেশি আশাব্যঞ্জক না হলেও তারেক রহমান খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের যৌন মিলনের ফসল কিনা তা নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক তৈরি করে।
শুধুমাত্র একজন বেজন্মা না হলে এবং প্রয়াত খালেদা জিয়ার পাক অফিসারদের সাথে, শুনেছি, অবৈধ সম্পর্ক ছিল, তারেক রহমানের মতো জনগণের প্রত্যাশার সাথে গাদ্দারি করা একজন রাজনৈতিক বেশ্যা নিশ্চিত পাকিস্তানিদের বীর্যে জন্ম নেওয়া। প্রয়াত বেগম জিয়া ও জেনারেল জানজুয়ার যৌন মিলনের অবয়িধ সন্তান।
বাংলাদেশের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে এই বিএনপি সরকারের পতন ঘটানো সময়ের দাবি। রাজনৈতিক বেজন্মা তারেক রহমান ও তার সরকারের দ্বারা জাতির প্রত্যাশা কখনোই পূরণ হবে না।
