নিরাপত্তাহীন বাংলাদেশ: নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে
সম্প্রতি সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো কেন বাড়ছে?
একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর, যেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমূল বদলে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে কেন এ বিপর্যস্ত পরিস্থিতি?
উল্লেখ্য, আগস্ট ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত সংগৃহীত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারীর প্রতি সহিংসতার মতো ঘটনার ১০৮টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ৬৯টি ধর্ষণ, ১৫টি গণধর্ষণ। এবং ৯টি ঘটনায় বিএনপির পক্ষে সরাসরি অভিযোগ রয়েছে—অপরাধীদের সরাসরি দলীয় নির্দেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এবং ২৮৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। বিএনপি একটি অপরাধী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
সারাদেশে এত অপরাধকর্মের পর সম্প্রতি দেশের মূলধারার প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে একযোগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রেস রিলিজ দিয়ে প্রচার করা হয়েছে, পাকিস্তানি মেজর জানজুয়ার পুত্র খাম্বা তারেকের কাজে আস্থা ফিরেছে দেশের জনগণের। এমন নির্জলা মিথ্যাচার।
মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় বসা একজন পরাধীন মন্ত্রী, রাজনৈতিক বেশ্যা তারেকের ওপর দেশের মানুষের আস্থা ফিরেছে—এও কি সম্ভব?
এমনকি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামরিক শাসক জিয়া, জানজুয়ার প্রেমিকা খালেদা জিয়া ও খাম্বা তারেকের আর্মির অফিসারদের সঙ্গে পরকীয়ার গল্প সংযুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে পরাধীন বিএনপি সরকার।
রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এরই মধ্যে দুর্নীতি প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। খাম্বা তারেকের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের কুকীর্তির খবর বেশ পুরোনো।
কুখ্যাত জঙ্গিবাদের হেরেমখানায় (হাওয়া ভবন) এক সময় তারেককে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির মতো নায়িকাদের সঙ্গে যৌন সঙ্গমে মেতে থাকতেন তারেক রহমান। এসব নারীর সাপ্লাইয়ার ছিল তারেকের কুখ্যাত সে বন্ধু। তারেক যখন মিডিয়া পাড়ার বিভিন্ন নারীদের সাথে যৌনময় নগ্ন সময় কাটাতো, সে সুযোগে দুর্নীতিবাজ, মাগী সাপ্লাইয়ার, বেশ্যাপুত্র মামুনেরা দেশে লুটপাটে ব্যস্ত সময় পার করতো।
সময় বদলেছে। বন্ধুও বদলেছে। এখন এসেছে মীর শাহে আলমের মতো লোকেরা। এরই মধ্যে তারেকের নয়া বন্ধুর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এসবের একটি ঘটনাতেও কি দুর্নীতিবাজ তথাকথিত প্রধানমন্ত্রী খাম্বা তারেক কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে? না, নেয়নি।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী এ নতুন বাংলাদেশেও খালেদার কুলাঙ্গার, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাস পুত্র খাম্বা তারেকের অদূরদর্শিতার কারণে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পথে। বাংলাদেশের মানুষ যদি এ অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, স্বৈরিণী শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বিএনপির জন্য।
